তস্করতন্ত্র (Kleptocracy )
বিভিন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থায় অধিষ্ঠিত শাসকবর্গের মাঝে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং সম্পত্তি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রবনতা লক্ষ করা যায়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে দুর্নীতির সর্বব্যাপিতা একটি বড় কারন হিসাবে ধরা হয়। দুর্নীতিগ্রস্থতা যদিও দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের অনুপস্থিতির কারণ, তথাপি এই সর্বব্যাপি দুর্নীতিকে পুঁজি করে গড়ে উঠা শাসকশ্রেণী এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গকে রাজনীতি বিজ্ঞানের ভাষায় Kleptocracy বা তস্করতন্ত্র বলা হয়।
Kleptocracy বা তস্করতন্ত্র হলো এমন সরকার বা সরকার ব্যবস্থা যেখানে শাসনক্ষমতায় থাকা দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তিবর্গ জনগণকে শোষন করার ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা কে ব্যবহার করে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পত্তিকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বৃদ্ধিতে ব্যবহার করে।
Kleptocracy শব্দটি সর্বপ্রথম ১৮১৯ সালে ইংরেজি তে পাওয়া যায়,কিন্তু ১৯৬০ দশক থেকে শব্দটির ব্যবহার বেড়ে যায়। বিশ্বায়নই মূলত শাসকবর্গকে সুযোগ করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার এবং তা আড়াল করে রাখার। বিশ্বজুড়ে আলোচনা সৃষ্টিকারী পানামা পেপার্স (Panama pepars) ও প্যারাডাইস পেপার্স (paradise papers) দুনিয়াজুড়ে লুকিয়ে থাকা তস্করদের সন্ধান দিয়েছে। কারণ অফশোর ফাইনান্সে “শেল কোম্পানির” মাধ্যমে খুব সহজেই তারা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিকে চোখের আড়ালে রাষ্ট্রের বাইরে নিয়ে যায়।
তস্করতন্ত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার,দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির অপব্যবহার ও আত্নসাৎ,ঘুষ সর্বব্যাপী হয়ে যায় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অপব্যবহার করে দুর্নীতি এবং এবং মানি লন্ডারিং এর বিরাট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির আস্বাভাবিক অপব্যবহার করে অতীতে Kleptocrat বা তস্কর তকমা পেয়েছেন পেরুর আলবের্তো ফুজিমরি,তিউনিশিয়ার বেন আলী,ইন্দোনেশিয়ার মোহামেদ সুহার্তো,গনতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মাবুতু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
হালে পুতিনের রাশিয়া,শি জিনপিং এর চীন,নিকোলাস মাদুরোর ভেনেজুয়েলাকে তস্করতন্ত্রের বড় উদাহরণ হিসাবে বলা হচ্ছে।তবে আমাদের দক্ষিন এশিয়াও এর বাইরে নেই,পাশের দেশ ইন্ডিয়া তে ২০১২ থেকে চলা ২জি স্পেকট্রাম মামলা তস্করতন্ত্রের বড় নির্দেশক।