Terms2Day

তৃতীয় বিশ্ব (Third World Countries)

আমরা বাংলাদেশকে বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশ ( Developing Country)  হিসাবে বিবেচনা করে থাকি। পাশাপাশি আমাদের কে তৃতীয় বিশ্বের দেশ (Third World Country)  বলেও বিবেচিত কর হয়। এই থেকেই আমাদের কৌতূহলী মন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে এর কারন খুজতে চায় যেমন টা জানতে চায় প্রথম বা দ্বিতীয় বিশ্ব বলে মূলত কাদের কে অবিহিত করা হয়।

পুরো বিশ্বকে ভাগ করে তিনটি ক্রমিক ধারায় ফেলার এই রীতি মূলত আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে দীর্ঘ চার দশকের অধিক সময় বিরাজ করা স্নায়ুযুদ্ধ শুরুর দিকের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

তৃতীয় বিশ্বের সংঞাও সময় সময় ভিন্নরুপ ধারন করেছে। কেননা স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে এটার উত্থান এবং সংঞায়ন রাজনৈতিক কারনে হলেও বর্তমানে এর সংঞা নির্ধারিত করা হয়েছে অর্থনৈতিক ভিত্তিতে। ১৯৫২ সালে Third World Country শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন ফ্রেঞ্চ জনতত্ত্ববিদ আল্ফ্রেড স্যুভি (Alfred Sauvy)।

প্রথমদিকে তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলতে স্নায়ু যুদ্ধকালীন সময়ে এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার জোটনিরপেক্ষ (Non-Aligned) দেশগুলোকে বোঝাতো যারা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে জোটবদ্ধ ছিলো না। ১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহরে ২৯ টি দেশ বিশ্বব্যবস্থায় তৃতীয় শক্তি তৈরীর ব্যাপারে একমত হয়। এদের ভিতর অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল দেশও ছিলো।

পিটার ওর্সলি (Peter Worsly) ১৯৬৪ সালে তৃতীয় বিশ্বের দেশকে সংঞায়িত করেছিলেন এভাবে :

“এই দেশগুলো হলো নব্য স্বাধীন,যাদের রয়েছে উপনিবেশিক ইতিহাস এবং বর্তমানে যারা জোটনিরপেক্ষ। “

কিন্তু পরবর্তী সময়ে তৃতীয় বিশ্ব বলতে প্রধানত বুঝানো হয় এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার এমন সব উন্নয়নশীল দেশ কে যাদের স্বনির্ভর (Self-Sustaining) অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেই। তৃতীয় বিশ্বের এই দেশগুলো শুধুমাত্র কিছু প্রাথমিক কাঁচামাল (Raw Materials)  উৎপাদন করতে পারে এবং তৈরি পন্যের (Finished Goods) জন্য তারা শিল্পোন্নত দেশগুলোর উপর ভরসা করে বেঁচে থাকে। কেননা কাঁচামালের (Raw Materials) বিক্রিত টাকায় আবার তারা সেই প্রস্তুতকৃত পন্য গুলোকে খরিদ করে এবং দেশের অর্থনীতিকে সচল এবং স্থিতিশীল রাখার জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর উপর এরা বেশ নির্ভরশীল।

উচ্চমাত্রার দারিদ্র, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা,  উচ্চমৃত্যু হার, তুলনামূলক স্বল্প প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা ( খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, নিরাপদ পানি) পূরনের অভাব হলো এই দেশগুলোর প্রাথমিক বৈশিষ্ট। তৃতীয় বিশ্বের এই দেশগুলোতে কার্যকরী শ্রেনী সংকট রয়েছে, অর্থাৎ এই দেশগুলোতে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর অভাব প্রচন্ডভাবে পরিলক্ষিত হয়। শুধুমাত্র উচ্চ এবং নিম্ন শ্রেনীতে সীমাবদ্ধ এই দেশগুলোতে দারিদ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন পন্থা নেয় এবং কার্যতই তা মধ্যবিত্ত শ্রেনীর অনুপস্থিতির কারনেই। কেননা, অর্থনীতিতে মধ্যবিত্তের অনুপস্থিতিতে উচ্চ এবং নিম্ন শ্রেনীর মাঝে অন্য কোন শ্রেনী থাকেনা। আর মানুষও দারিদ্র থেকে মুক্তি পায় না এবং  অল্পসংখক উচ্চশ্রেনীও সমাজের এই অসম অবস্থাকে টিকিয়ে রেখে পুঁজিকে পুঞ্জিভূত করে।

প্রশ্ন জাগে, দারিদ্রপীড়িত এই দেশগুলোকে তৃতীয় বিশ্ব বলা হলে  প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্ব কারা?

স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে অধিকমাত্রায় উন্নত, বিশেষত শিল্পোন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলোকে প্রথম বিশ্ব বলা হত। অন্যভাবে বলতে গেলে শিল্পোন্নত পুঁজিবাদী দেশসমূহ যারা ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জোটবদ্ধ ছিলো তাদেরকে বলা হত প্রথম বিশ্ব। এদের ভিতর ছিলো উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ,জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া।

অপরদিকে, র‍্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় ধাপ তথা দ্বিতীয় বিশ্ব (Second World) বলা হত সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী সেই দেশগুলো যারা সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে জোটবদ্ধ ছিলো। এদের ভিতর ছিলো রাশিয়া, পোলান্ড,চীন এবং পূর্ব ইউরোপের বেশ কিছু দেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *