গিল্ড (Guild)
মধ্যযুগের সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় গিল্ড (Guild) নাম্নী একটি প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়। মধ্যযুগের রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি বিশেষ অবস্থান নিয়ে ছিলো এই গিল্ডগুলো। গিল্ড বা সংঘ ব্যবস্থা মধ্যযুগীয় শহরগুলোর কারুশিল্পের বৃহৎ উন্নয়ন সাধনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলো।
গিল্ড(Guild) এর বুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে সংগঠন বা association। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং ইতিহাসের পাঠে গিল্ডের সজ্ঞায়নে বলা হয়: গিল্ড বা সংঘ হলো একই পেশার সংঘবদ্ধ এক গোষ্ঠি যারা নিজেদের স্বার্থে একটি সমিতি গড়ে তুলে। যাদের উদ্দেশ্য থাকে নিজেদের পেশার গুনগত মান উন্নয়ন, সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করা ও তাদের অধিকারসমূহ কে তুলে ধরা।
ঠিক কখন থেকে গিল্ড বা সংঘ করা আরম্ভ হয় তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ বলছেন ৯শ শতক থেকে কেউবা বলেছেন ১২শ শতক থেকে। তবে ইংল্যান্ডে গিল্ডের প্রথম অস্তিত্ব পাওয়া যায় ১০৬৬ সালে নরমানদের বিজয়ের মাধ্যমে।তবে মধ্যযুগের শেষের দিকে গিল্ড বা সংঘ গঠন করার সংস্কৃতি মারাত্মক হারে বেড়ে যায়। তাইতো ১৪০০শ শতকের শুরুর দিকে শুধুমাত্র প্যারিসেই ৩৫০ গিল্ড বা সংঘ পাওয়া যায়।
নগর ও শহর গুলোতেই গড়ে উঠত এই সংঘগুলো এবং গিল্ডের সদস্য হওয়াকে সমাজে একটি সম্মানিত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হত। যেহেতু গিল্ডের সদস্য হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় শর্ত ছিলো সেই নির্দিষ্ট পেশায় দক্ষ হওয়া।
এই সংঘগুলোর মাঝে দুইটি ছিলো শীর্ষস্থানীয় ক্ষমতাবান এবং সংখ্যাধিক্যের অধিকারী। যার একটি হলো বনিক সংঘ আর আরেকটি হলো কারিগর সংঘ।
বনিকদের গিল্ড বা সংঘ তাদের ব্যবসার বৃদ্ধির জন্য কাজ করতো, তা ছাড়াও মূল্য বাজারের মূল্য নির্ধারন এবং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো এই বনিক সংঘই। সংঘের বাইরের কারো সেই শহর বা নগরে ব্যবসা করার অধিকার ছিলো না। একই অবস্থা ছিলো কারিগর সংঘের মাঝেও।
সংঘের বাইরের কেউ সেই শহরে বা নগরে কোন ভাবেই ব্যবসা করতে পারতো না। আর প্রত্যেক সংঘেরই ছিলো বেশ কিছু আইন-কানুন যা ভঙ্গ করার দরুণ কঠিন শাস্তি পেতে হতো, মাত্রা ভেদে সংঘ থেকে বহিস্কার পর্যন্তও করা হত।
প্রত্যেকটি গিল্ডের ছিলো তিনটি ধাপ। সেগুলো হচ্ছে:
- শিক্ষানবিশ (Apprentice)
- মজুর (Journeyman)
- মাস্টার (Master)
এই তৃতীয় পর্যায়ে এসে কোন ব্যক্তি নিজে দোকান দিয়ে ব্যবসার অনুমতি পেতো।তার আগ পর্যন্ত প্রথমে শিক্ষা নিয়ে তার পর মজুর হিসেবে কাজ করতে হতো।
ক্ষেত্র বিশেষে তারা সদস্যদেরকে সাহায্যও করতো, যেমন অসুস্থ হলে গিল্ড এগিয়ে আসতো সাহায্য করতে। অর্থাৎ গিল্ড বা সংঘ মধ্যযুগীয় সমাজ এবং এর সমাজের মানুষদের জীবনকে বিশেষত অর্থনীতিকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করতো।
তথ্যসূত্র:
- Mediavalchronicles.com
- Historylearningsite.co.uk
- Landlordstudies.com