প্রলেতারিয়েত (Proletariat)
The proletarians have nothing to lose but their chains. They have a world to win- Karl Marx
মহতী কার্ল মার্ক্স বলেছিলেন পুঁজিবাদ তার ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনবে। আর দ্বান্দ্বিক ইতিহাসের এই দুনিয়ায় শ্রেনী সংগ্রামে প্রলেতারিয়েতের জয় হবে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়। কারা এই প্রলেতারিয়েত? মহতী মার্ক্স প্রলেতারিয়েত দ্বারা কাদের কে বোঝালেন?
প্রাচীন রোমে জমি-জমাহীন দরিদ্র স্বাধীন লোকদেরকে প্রলেতারিয়েত বলা হত। তারা ছিল রোমের সর্বনিম্ন শ্রেনী। তবে কার্ল মার্ক্স এবং ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস তাদের বিশ্ববিখ্যাত কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো তে প্রলেতারিয়েত কে সংজ্ঞায়িত করেছেন এই ভাবে;
“প্রলেতারিয়েত বা সর্বহারা হলো আজকালকার মজুরি-শ্রমিকেরা, উৎপাদন উপায় নিজেদের হাতে না থাকার দরুন যারা বেঁচে থাকার জন্য স্বীয় শ্রমশক্তি বেচতে বাধ্য হয়।“
(১৮৮৮ তে এঙ্গেলস কমিউনিস্ট মেনিফেস্টোর টীকা তে এই সংজ্ঞা দেন।)
সামন্ত যুগের ক্রান্তিকালে উৎপাদন উপায় এবং ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধিত হয় যাকে আমরা শিল্পায়ন বলে থাকি । এই সময়ে উৎপাদনের উপায় কে কেন্দ্র করে সমাজে পরস্পর বিরোধী নতুন দুটি শ্রেনীর আবির্ভাব ঘটে যার একদিকে বুর্জোয়াঁ এবং অপরদিকে প্রলেতারিয়েত।
শিল্পায়নের এই যুগে নিজেদের উৎপাদনের উপায় না থাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক কে কায়িক শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকতে হতো,আর তাদের সেই দুরাবস্থার সুযোগ নিয়ে একদল লোক নিজেদের কে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে চলে যাচ্ছিলো। কার্ল মার্ক্স এই সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু বঞ্চিত এবং কায়িক শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা লোকদেরকেই প্রলেতারিয়েত বা সর্বহারা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মার্ক্সের ভাষায় প্রলেতারিয়েত হলো শিল্পায়নের যুগে যন্ত্রের বিশিষ্ট এবং অনিবার্য সৃষ্টি, তবে প্রলেতারিয়েতের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো তার বিপ্লবী চেতনা এবং মনোভাব।