রেফারেন্সিং এর হাতেখড়ি (A Beginner’s Guide to Referencing)
আমরা যারা একাডেমিক লেখালেখির জগতে সদ্য প্রবেশ করেছি তাদের জন্য প্রাথমিক এবং বেশ স্বাভাবিক একটি মাথাব্যথার বিষয় হলো তথ্যসূত্র লেখা বা রেফারেন্সিং বিশেষ করে কোর্স শিক্ষক যখন সঠিক পদ্ধতিতে রেফারেন্স লিখতে বলেন কিংবা রেফারেন্সিং এর কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন, তখন আমাদের বেশ ভালোই বেকায়দায় পড়তে হয়
তাহলে কি এই রেফারেন্সিং? আর কেনই বা এটি প্রয়োজনীয়?
মূলতঃ রেফারেন্সিং হলো লেখায় ব্যবহৃত কোন তথ্য বা মতামতের মূল অধিকারীর স্বত্ব স্বীকার করা
অর্থাৎ, আমার লেখায় আমি যদি কোন তথ্য ব্যবহার করি তাহলে আমাকে সেই তথ্য ঠিক কোথা থেকে পেয়েছি তা রেফার বা উল্লেখ করতে হবে এছাড়া অন্য কোন লেখকের মতামত যদি আমি লেখায় ব্যবহার করি, হোক তা উদ্ধৃতির মাধ্যমে কিংবা নিজের ভাষায় (প্যারাফ্রেজিং), তার জন্যও আমাকে রেফারেন্সের মাধ্যমে যথাযথ স্বত্ব স্বীকার করতে হবে
লেখার যথাযথ রেফারেন্সিং ভীষণ জরুরী বেশ কয়েকটি কারণে প্রথমতঃ কুম্ভীলকবৃত্তি (প্লেজারিজম) এড়ানোর জন্য অর্থাৎ অন্যের আইডিয়া নিজের বলে চালিয়ে দেয়ার মতো গর্হিত কাজটি থেকে বেঁচে থাকার জন্য একাডেমিক জগতে এটি কিন্তু অত্যন্ত নিন্দাজনক একটি অপরাধ! দ্বিতীয়তঃ ব্যবহৃত তথ্যের যথার্থতা প্রমাণ করার জন্য তথ্যের সোর্স বা উৎস উল্লেখ করা জরুরী আপনি যত নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য রেফার করবেন, লেখার ভিত্তিটিও তত বেশি পোক্ত হবে তৃতীয়তঃ একটি লেখার রেফারেন্স থেকে পাঠক সে বিষয়ে আরো বিশদ পড়াশোনা করার জন্য দিক নির্দেশনা পেয়ে থাকেন তাই পাঠকদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরো গভীর জ্ঞানার্জনে সহায়তার জন্য সঠিকভাবে রেফারেন্সিং প্রয়োজনীয়
একটি লেখা তৈরীর জন্য আপনি কত্তোগুলো বই, জার্নাল, পত্রিকা ইত্যাদি পড়েছেন এবং সেগুলো থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য ও মতামত আপনার লেখায় ব্যবহার করেছেন তা পাঠকদের জানানোরও একটি সুবর্ণ সুযোগ কিন্তু এই রেফারেন্সিং! তবে খেয়াল রাখতে হবে কোন অপ্রাসঙ্গিক এবং অবশ্যই কোন অসত্য রেফারেন্স যেন ব্যবহার করা না হয়
এখন আসা যাক সঠিক পদ্ধতিতে রেফারেন্সিং প্রসঙ্গে আমাদের অনেকেরই প্রাথমিকভাবে ধারণা থাকে লেখার শেষে বিষয় সংশ্লিষ্ট বই, জার্নাল ইত্যাদির নাম লিখে দেয়াটাই বুঝি রেফারেন্স দেয়া আবার অনেকেই এলোমেলোভাবে তথ্যসূত্রগুলো লেখার এখানে ওখানে উদ্ধৃত করে থাকি একটি ভালো একাডেমিক লেখা তৈরীর জন্য যথাযথ পদ্ধতিতে রেফারেন্সিং করা আবশ্যক এতে করে রেফারেন্স লেখার কাজটা যেমন সহজ ও গোছানো হয়, তেমনি পাঠকের জন্য তা বোঝা সহজ হয়ে যায়
একাডেমিক জগতে তিনটি পদ্ধতিতে রেফারেন্সিং প্রচলিত রয়েছে- ফুটনোট, এন্ডনোট এবং ইন টেক্সট সাইটেশন ফুটনোট আমাদের খুবই পরিচিত একটি পদ্ধতি, যা বিভিন্ন বই ও জার্নাল আর্টিকেলে আমরা প্রায়ই দেখে থাকি এ পদ্ধতিতে লেখার যে স্থানে রেফারেন্স দেয়া প্রয়োজনীয় সেখানে একটি সুপারস্ক্রিপ্ট বা ক্ষুদ্র অক্ষরে লেখার ঠিক উপরে একটি নাম্বার বসানো হয় পৃষ্ঠার নিচে একটি লাইন টেনে তার নিচে সে নাম্বার অনুসারে মূল রেফারেন্সটি লেখা হয় একটি পৃষ্ঠায় যতগুলো রেফারেন্স নাম্বার বসানো হয় তার প্রত্যেকটিই নিচে রেফার করতে হয় পূর্ণ রেফারেন্স লেখার ব্যাপারে বিস্তারিত পরবর্তী আলোচনায় আসছে তবে এক্ষেত্রে একটি বই বা আর্টিকেল একবার পুরোপুরি উদ্ধৃত করার পর যদি পুনরায় রেফার করতে হয়, তাহলে শুধু লেখকের নামের শেষাংশ, বইয়ের নাম ও পৃষ্ঠা নং লিখলেই চলবে এন্ডনোট রেফারেন্সিংও অনেকটা ফুটনোট রেফারেন্সিং এর মতোই, শুধু এক্ষেত্রে নাম্বার অনুসারে রেফারেন্সগুলো সম্পূর্ণ লেখা বা অধ্যায়ের শেষে উল্লেখ করা হয়
উপরে উল্লেখিত দু’টি পদ্ধতিতে লেখার মূল অংশে রেফারেন্স নির্দেশনার জন্য ক্ষুদ্র নাম্বার ব্যবহার করা হয়, কিন্তু ইন টেক্সট সাইটেশনের ক্ষেত্রে লেখার মূল অংশে রেফারেন্সের জন্য ব্র্যাকেটের ভেতর লেখকের নামের শেষাংশ, বই বা আর্টিকেল প্রকাশনার সাল এবং পৃষ্ঠা নং উল্লেখ করা হয়ে থাকে লেখার একদম শেষে অ্যালফাবেটিকাল অর্ডারে অর্থাৎ বর্ণানুক্রমিকভাবে মূল রেফারেন্সগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে দিতে হয় এ পদ্ধতিটিকে প্যারেন্থেটিক্যাল বা বন্ধনীসমন্বিত সাইটেশনও বলা হয়ে থাকে
এতো গেলো লেখার মূল অংশে রেফারেন্স নির্দেশক বা সংক্ষিপ্ত রেফারেন্স বসানোর পদ্ধতি এবার আসা যাক মূল বা পূর্ণাঙ্গ রেফারেন্স লেখার পদ্ধতির আলোচনায় পূর্ণাঙ্গ রেফারেন্সে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে এমন বিষয়গুলো হলো লেখকের নাম, প্রকাশনার সাল, বইয়ের নাম, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, প্রকাশনার স্থান এবং পৃষ্ঠা নং (বইয়ের ক্ষেত্রে) ইন টেক্সট সাইটেশনের ক্ষেত্রে যেহেতু লেখার মূল অংশেই পৃষ্ঠা নং দেয়া থাকে তাই মূল রেফারেন্সে পৃষ্ঠা নং উল্লেখের প্রয়োজন পড়ে না এছাড়া যদি একাধিক লেখক থাকে তাহলে প্রত্যেকের নামের সংক্ষিপ্তরূপ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে রেফার করতে হবে আবার জার্নাল আর্টিকেলের ক্ষেত্রে জার্নালের নাম, ভলিউম সংখ্যা, ইস্যু নং ও প্রকাশনার মাস উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় একইভাবে পত্রিকা, সম্পাদিত বই, সরকারি বা আইনি নথি, অনলাইন রেফারেন্স, ইত্যাদি রেফার করার জন্যও আলাদা আলাদা ও সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যার বিস্তারিত বর্ণনা এই লেখার ক্ষুদ্র পরিসরে দেয়া দুঃসাধ্য অনলাইনে এ বিষয়ে অনেক আর্টিকেল রয়েছে যা থেকে এ নিয়মগুলোর সহজ ও সাবলীল ব্যাখ্যা পাওয়া যায়
মূল রেফারেন্স লেখার ক্ষেত্রেও লেখকের নামের কোন অংশ প্রথমে বসবে, প্রকাশনা সাল কোথায় বসবে, বইয়ের নাম উদ্ধৃতি চিহ্নের ভেতর থাকবে নাকি ইটালিক তথা বাঁকা অক্ষরে লেখা থাকবে, ইত্যাদি বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে লিখতে হয় এমনকি ফুলস্টপ, কমা, কোলন, ব্র্যাকেট ইত্যাদি চিহ্নের ব্যবহারও সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে করা প্রয়োজন এ নিয়মগুলোর জন্য বিভিন্ন রেফারেন্সিং স্টাইল রয়েছে, যার মধ্যে MLA, APA, Chicago ইত্যাদি স্টাইল বহুল ব্যবহৃত এর মধ্যে যে কোনটিই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একাডেমিক লেখায় ব্যবহার করা যেতে পারে তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন একটি লেখার জন্য নির্দিষ্ট একটি স্টাইলই ব্যবহার করা হয় ফুটনোট, এন্ডনোট এবং ইন টেক্সট পদ্ধতিগুলো থেকেও যেকোন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে
গুরুচন্ডালী দোষের মতোই কিন্তু একই লেখায় একাধিক রেফারেন্স স্টাইল ও পদ্ধতি ব্যবহার অত্যন্ত দূষণীয়!
তাহলে এবার একটু গুগল মামার সাহায্য নেয়ার পালা যেকোন একটি রেফারেন্স স্টাইল বেছে নিয়ে তা গুগলে সার্চ করলেই অনেক নির্ভরযোগ্য আর্টিকেল পাওয়া যাবে যাতে বই, জার্নাল, সরকারি নথি, পরিসংখ্যান, পত্রিকা, অনলাইন আর্টিকেল প্রভৃতির রেফারেন্সিং পদ্ধতি আলাদা আলাদা ভাবে উদাহরণসহ আলোচনা করা রয়েছে তা অনুসরণ করে আপনার লেখার রেফারেন্সিং অংশটিকে নিয়মমাফিক ও গোছানো করে তোলা সময়ের ব্যাপার মাত্র!
This write-up is prepared with the little breadth of knowledge the writer has been able to gather with her insufficient amount of study. So, it is only natural that it contains many flaws and defects. The writer would be very much grateful if you kindly mention any flaw you have noticed in the comment section so as to help her improve the write-up as well as her own knowledge.