বহুত্ববাদ (Pluralism)
বহুত্ববাদ বা Pluralism একটি রাজনৈতিক দর্শন। যেটি একটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদ্যমান মতপার্থক্য এবং বৈচিত্র্যগুলো চিহ্নিতকরণ এবং স্বীকৃতিদানের মাধ্যমে সেখানকার ভিন্ন স্বার্থ, ভিন্ন মত এবং ভিন্ন ভিন্ন জীবনবোধের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে। বহুত্ববাদ উগ্রতার পরিবর্তে একটি সমাজের সদস্যদের মধ্যকার বিভিন্নতাকে অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে সরল এবং শুদ্ধ বিতর্কের (Good Faith Dialogue) পরিবেশ সৃষ্টি করে। বহুত্ববাদী সব দার্শনিকই গণতন্ত্রকে সমর্থন না করলেও বর্তমানে ভিন্নমত প্রকাশের জন্যে একমাত্র গণতন্ত্রকেই (Democracy) সর্বাধিক স্বচ্ছ এবং কার্যকরী হিসেবে মনে করা হয়।
সমাজে নানা মত, পথ এবং মূল্যবোধ গুলোকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে দিতে এবং প্রতিফলিত মতগুলোর মাঝে একটি ভারসাম্য তৈরীর লক্ষ্যে নতুন নতুন সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণ এবং কখনও কখনও বিদ্যমান সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে সংস্কারের পথও কোন কোন বহুত্ববাদীরা খুঁজে থাকেন।
প্রাতিষ্ঠানিক বহুত্ববাদের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী আর্গুমেন্টটি এসেছে জেমস ম্যাডিসনের (James Madison) কাছ থেকে। তিনি তার “দ্যা ফেডারেলিস্ট পেপার” (Federalist paper) এ একটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ভয়াবহ দলাদলির (Factionalism) ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন ভয়াবহ রকমের দলাদলির কালচার আমেরিকান রিপাব্লিককে অভ্যন্তরীণ সংকটের মাঝে নিয়ে যাবে। এবং এর থেকে বাঁচার পথ বাতলাতে তিনি তার “দ্যা ফেডারেলিস্ট” পেপারে বলছেন, এই রূপ ভয়াবহ রকমের দলাদলি থেকে বাঁচতে হলে সর্বোত্তম পন্থা হলো কোন একটি পলিটিতে (Polity) বিদ্যমান সকল দলগুলোকে তাদের নিজেদের মাঝে অবাধ প্রতিযোগীতার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া। যেখানে তারা সব সময় কোন একটি নির্দিষ্ট দলকে সেই রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ডমিনেট করার মনোবাঞ্ছা থেকে বিরত রাখতে প্রচেষ্ট থাকে।
বহুত্ববাদের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে এটির প্রক্রিয়া- দ্বন্দ এবং সংলাপের ফলাফলে তৈরী হয় যে সার্বিক কল্যাণ বা Common Good সেটি। এই সার্বিক কল্যাণের ধারণাটি কোন দৈব মূল্যবোধ নয়, নয় কোন প্রস্তর খোদিত অমোঘ বাণী। বরং বহুত্ববাদী সমাজে এই সার্বিক কল্যাণ নির্ণিত হয় প্রতিযোগীতামূলক সামাজিক স্বার্থের মাঝে ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে এবং একটি সমাজের প্রতিনিয়ত পরিবর্তণমূলক স্বভাবের মাধ্যমে।